নিউজপলিটিক্সরাজ্য

দেবাঞ্জনের অফিসে থাকতো কড়া নিরাপত্তা । অফিসে ঢুকতে গেলে বন্ধ করে দিতে হতো মোবাইল।

নিজস্ব প্রতিবেদন: টাকার লোভে মানুষ যে কতটা পিশাচ হতে পারে তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত হল দেবাঞ্জন। কসবার ভুয়ো ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প চালিয়ে যাদবপুরের সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর তৎপরতায় ধরা পড়েছে দেবাঞ্জন। কিন্তু তার প্রতারণার গভীরে যত পৌঁছাচ্ছে পুলিশ ততই তারা রীতিমত অবাক হয়ে যাচ্ছে। কলকাতা পুরসভার ভুয়ো হলোগ্রাম ব্যবহার করে কিভাবে এসে একের পর এক প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল তা স্তম্ভিত করেছে দুঁদে অফিসারদের।

নিজেকে আসল প্রমান করতে সব সময় প্রভাবশালী মহলের সাথে যোগাযোগ রাখতেন দেবাঞ্জন। প্রাক্তন এক বিএসএফ অফিসার কে নিজের সর্বক্ষণের সিকিউরিটি নিয়োগ করেছিলেন দেবাঞ্জন। এছাড়াও প্রতি মাসে ৫২ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি ইনোভা নীলবাতি গাড়ি চড়ে ঘুরে বেড়াতেন দেবাঞ্জন। কসবার অফিসটি একদম পুরসভার আদলে সাজিয়েছিলেন দেবাঞ্জন।

আরও পড়ুন-রবীন্দ্রনাথের মূর্তির ফলকে রাজ্যের যুগ্মসচিব হিসাবে দেবাঞ্জন দেবের নাম। ভাঙলো প্রশাসন।

সমস্ত জায়গায় পুরসভার জাল নথিপত্র ব্যবহার করতেন তিনি। কসবার নিউমার্কেটের পাশের বহুতলে তার অফিস দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এটা কলকাতা পুরসভার নকল অফিস। ‌ রীতিমতো সাজানো-গোছানো ছিল তার অফিস, অফিসের ভিতরে ছিল ফিরহাদ হাকিম এর বড় ছবি। এছাড়াও জাল নথি ব্যবহার করেই ইনোভা গাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন দেবাঞ্জন।

ছয় মাসের চুক্তিতে এই গাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। তার অফিসে ছিলো খুবই কড়াকড়ি। অফিসে ঢুকতে গেলে মোবাইল বন্ধ করে ঢুকতে হত। ভিতরে ঢুকে চেনার উপায় ছিল না যে এই অফিসটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।

আরও পড়ুন-ক্ষোভ প্রশমনে নয়া উদ্যোগ। নীচুতলার কর্মীদের দুয়ারে যাচ্ছে সিপিএম।

কেএমসির অন্দরে বেশ কিছু প্রভাবশালী সাথে যোগাযোগ তৈরি করেছিল দেবাঞ্জন। বারবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে প্রভাবশালী নেতা মন্ত্রীদের সাথে নিজের ছবি আপলোড করতে সে। টানা কয়েক মাসেই ভাবে প্রতারণা চালিয়ে গিয়েছে সে। ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পাননি যে এই দেবাঞ্জন একজন ভুয়ো আইএএস অফিসার।

কলকাতা পুরসভার জাল স্ট্যাম্প প্যাড ব্যবহার করতো সে।

Related Articles

Back to top button