নিউজপলিটিক্সরাজ্য

“বাংলায় কুমিরের কান্না আর ত্রিপুরায় বর্বরতা”- ত্রিপুরা কান্ডে বিজেপিকে বিঁধলেন ফিরহাদ হাকিম

নিজস্ব প্রতিবেদন: ত্রিপুরা কান্ডে রীতিমতো উত্তাল হয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জয়া দত্ত প্রমুখ তৃণমূলের নেতারা ত্রিপুরার মাটিতে এলাকা পরিদর্শনে বের হয়েছিলেন। তখনই নাকি বিজেপির কর্মী সমর্থকরা তাদের উপরে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দেবাংশু। তিনি ঘটনাস্থল থেকে লাইভ ভিডিও করে অভিযোগ করেছেন যে, পাথর ছুঁড়ে তাঁদের নাকি তাঁদের গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

তিনি এটাও বলেছেন যে, পাহাড় থেকে নামার সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে রীতিমতো পাথর ইঁট ছোঁড়া হয়েছে। সুদীপের নাকি মাথা ফেটে গিয়েছে এবং জয়া দত্তের‌ও নাকি গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়াও দেবাংশু ত্রিপুরা পুলিশের উপর আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন যে, সমস্ত কিছু লক্ষ্য করেও ত্রিপুরা পুলিশ তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেনি। দেবাংশু লাইভ ভিডিওতে উপস্থিত পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন যে, “আপনারা বলে দিন, যে ত্রিপুরার মাটিতে কেউ আসবেন না তাহলে আমরা এখানেই সকলে আত্মহত্যা করব সকলের এখানে রক্ত ঝরুক।”

আরও পড়ুন-“খেলরত্ন পুরস্কার হওয়া উচিৎ মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নামে”- দাবি করলেন কুণাল

ত্রিপুরা পুলিশ গ্রেফতার করেছিলো দেবাংশু দের। পুলিশ অভিযোগ করেছিল যে দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত, কর্মীদের নিয়ে বিধিনিষেধ আইন লঙ্ঘন করেছে। খোয়াই থানায় পুলিশ আধিকারিক দের সাথে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তৃণমূল নেতারা। পুলিশকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে,”এই বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করার অভিযোগে ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন-মুকুল রায়ের বেফাঁস মন্তব্য প্রসঙ্গে বিবৃতি দিলেন পুত্র শুভ্রাংশু রায়।

কিন্তু থানার বাইরে যে ২ হাজার বিজেপি কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাহলে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না কেন?”গতকাল খোয়াই চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত থেকে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন পেয়েছেন দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, সুদীপ রাহা। তেলিয়ামোরা থানার মামলাটি থেকে জামিন পেয়েছেন তাঁরা।এদিকে ত্রিপুরা কান্ডে রীতিমতো সোচ্চার হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।

বিজেপির প্রতি আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেছেন,”বাংলায় কুমিরের কান্না আর ত্রিপুরায় বর্বরতা এই দুটো বিজেপি পার্টি করছে । বোঝাই যাচ্ছে যে গণতন্ত্রের কান্না যেটা বাংলায় তারা কাঁদছিলো সেটা সম্পূর্ণ ভুয়ো। ত্রিপুরায় যখন তারা শাসক, তখন কিভাবে সিংহের নখ বের করে সেটা দেখাই যাচ্ছে। কিন্তু এতে করে তৃণমূলকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।

আরও পড়ুন-“দেড় বছরে বিপ্লব দেবের সরকার উপড়ে ফেলবো”- ত্রিপুরা কান্ডে বললেন অভিষেক

বাংলায় লড়াই করে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে ৩৪ বছর ধরে বাংলায় শাসন চালানো সিপিএমকে তৃণমূল হারিয়ে দিয়েছে। ত্রিপুরাতেও বিজেপিকে সরিয়ে দিয়ে তৃণমূল আসবে। আমাদের যত মারবে, আমরা তত শক্তিশালী হবো। বিজেপি আজ ভয় পাচ্ছে বলে মারছে, ভয় পাচ্ছে বলে গ্রেফতার করছে।

কিন্তু এতে তৃণমূল ভয় পায়না।”

Related Articles

Back to top button