শীতলকুচিতে ৪ ব্যক্তির প্রাণ যাওয়ার ঘটনায় মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা চিদম্বরম;‘ঘটনার দায়ভার কে নেবে’? প্রশ্ন তুলে আক্রমণ কমিশনকে!

শীতলকুচিতে ৪ ব্যক্তির প্রাণ যাওয়ার ঘটনায় মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা চিদম্বরম;‘ঘটনার দায়ভার কে নেবে’? প্রশ্ন তুলে আক্রমণ কমিশনকে!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-গতকাল চতুর্থ দফার ভোটে শুরু থেকেই একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটে এসেছে। প্রথম তিন পর্বের ভোট সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হলেও চতুর্থ দফার ভোটে সকাল থেকে অশান্তি সৃষ্টি হওয়ার পর রক্তগঙ্গা বইতে খুব বেশি দেরি হয়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথেই প্রথমে ভোট দিতে যাওয়া এক নতুন ভোটার আনন্দ বর্মন নামক ১৮ বছর বয়সী যুবকের উপর হঠাৎ করে তৃণমূল কর্মীদের একাংশ গুলি চালনা করলে তার মৃত্যু ঘটে।

যদিও প্রথমে বেশ কিছুক্ষণ ওই যুবক তৃণমূল না বিজেপি কর্মী তা নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। একদিকে যেমন গেরুয়া শিবিরের দাবি ছিল ওই যুবক বিজেপি সমর্থক হওয়ার জন্যই তৃণমূলীরা তাকে হত্যা করেছে। ঠিক অপরদিকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী অর্থাৎ নাটাবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী জানান ওই যুবক তৃণমূল সমর্থক।এমতাবস্তায় জল্পনা-কল্পনা চলতে থাকলে ঠিক দুপুর দিকে শুরুতেই হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ যুবকের প্রাণ যায়। যদিও এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি,৩০০—৪০০ গ্রামবাসী মিলে তাদের ঘেরাও করায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার সত্যাসত্য কিছু জানা যায়নি। মৃত ওই চার যুবকের নাম হামিদুল হক, সামিউল মিঞা, মনিরুল হক এবং আমজাদ হোসেন।প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, উপরিউক্ত দুটি ঘটনাই ঘটেছে কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায়।সকাল থেকেই কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা দফায় দফায় উত্তপ্ত হতে দেখা যাচ্ছিল। আপাতত এই বিষয়ে ৭২ ঘন্টা কোচবিহারে কোন নেতা নেত্রীদের ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। গতকাল বঙ্গ সফরে এসে এই প্রসঙ্গে মমতাকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছিলেন মোদি।

আরও পড়ুন-বর্তমানে এখন কত টাকার মালিক শ্রাবন্তী? কয়টি ফ্ল্যাট কয়টি গাড়ি তার? রইলো ভিডিও সহ!

আবারো এদিন কোচবিহারের শীতলকুচির ঘটনায় মুখ খুললেন কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম।প্রসঙ্গত কংগ্রেসের এই নেতা সমস্ত দায়ভার অর্পণ করেছেন নির্বাচন কমিশনের উপর। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি বার্তা প্রকাশ করে তিনি লেখেন,”ভোটের দিন পুলিশের গুলিতে চারজনের প্রাণ গিয়েছে। এই ধরনের কোনও ঘটনা কয়েক বছরের মধ্যে ঘটেছে কিনা, তা মনে করতে পারছি না।এই ঘটনা নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।এই ঘটনার দায় এখন কে নেবে”?

উল্লেখ্য বিশ্লেষণের দিক থেকে দেখতে গেলে চিদম্বরমের বক্তব্য অনেকটাই সত্যি। তার কারণ এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলি একে অপরকে দোষারোপ করতে ব্যস্ত থাকলেও প্রকৃত দোষী কে তা বিচার করা যায়নি। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনী স্থানীয় বাসিন্দাদের দায়ী করলেও,স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশের বক্তব্য অনুসারে সম্পূর্ণভাবে বিজেপির পরিকল্পনা অনুসারে এই কাজটি করা হয়েছে। তার কারণ ঘটনার আগে পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে সম্পূর্ণ শান্তি বজায় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপর ওই যুবকদের রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চারজনকে প্রাণে বাঁচানো যায়নি।