‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যু নিয়েও তোষণের রাজনীতি করছেন’; মন্তব্য অমিত শাহের!

‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যু নিয়েও তোষণের রাজনীতি করছেন’; মন্তব্য অমিত শাহের!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-শীতলকুচির ঘটনায় একের পর এক মন্তব্য ক্রমশ সামনে এসে চলেছে বাংলার রাজনীতিতে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে দোষী মানুষদের নাম সামনে আসেনি।এই পরিস্থিতিতে আবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।আজ শান্তিপুরের রোড শো থেকে মমতাকে আক্রমণ করে শাহ বলেন,”শীতলকুচির চারজনের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

কিন্তু সেদিন সকালে আনন্দ বর্মণ নামের এক যুবক প্রথমবার ভোটের লাইনে দাড়িয়ে প্রাণ হারাল, সেটা নিয়ে কিছু বলছেন না কেন তিনি?মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃত্যু নিয়েও তোষণের রাজনীতি করছেন, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক”।প্রসঙ্গত উল্লেখ্য গতকাল চতুর্থ দফার ভোট চলাকালীন দফায় — দফায় কোচবিহার উত্তপ্ত হতে দেখা যায়। প্রথমে ভোটের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় আনন্দ বর্মন নামে এক নতুন ভোটারকে রাজনৈতিক দলের দুষ্কৃতীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করেন।

প্রথমে সেই ব্যাক্তি তৃণমূল না বিজেপি সমর্থক তা নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও পরবর্তীতে জানা যায় আনন্দ বিজেপি সমর্থক ছিলেন। এরপর থেকেই গেরুয়া শিবিরের নেতারা দাবি করতে থাকেন বিজেপিকে সমর্থন করার জন্যই পরিকল্পনা করা খুন করা হয়েছে ১৮ বছর বয়সী ওই যুবককে।কিন্তু ঠিক এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই আবারও কোচবিহারের শীতলকুচি এলাকায় একটি বুথের নিকটবর্তী জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর চড়াও হয় স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন-‘গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত বিজেপির।আর অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত’; দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী!

বাহিনীর কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ করেই জওয়ানরা গুলি চালাতে বাধ্য হয়। এমতাবস্তায় কেরল থেকে বাংলায় ভোট দিতে আসা ৪ যুবকের গায়ে ওই গুলি লাগে। সাথে সাথেই তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা ওই ব্যক্তিদের মৃত ঘোষণা করেন।প্রসঙ্গত আপাতত ৭২ ঘন্টা কোচবিহারে সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আগমন বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।যাতে কোন রকম ভাবেই এই ঘটনার ওপর রাজনৈতিক ছাপ না পড়তে পারে তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

এমতাবস্থায় আজ রবিবার সকালে ভিডিও কলের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সকল মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ভাবে সাহায্য করার পাশাপাশি এক নিহতের স্ত্রী, যিনি সন্তান সম্ভবা ছিলেন তার সমস্ত দায়ভার গ্রহণ করার কথা জানান মমতা।আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় এলাকার প্রশাসন ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। তবে ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, সম্পূর্ণরূপে পরিকল্পনামাফিক চক্রান্ত করে বিজেপি দল এই ঘটনা ঘটিয়েছে।তবে এই দাবির এখনো পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি।