“বিজেপির সংকীর্ণ রাজনীতি বাংলায় বিপর্যয় ডেকে আনবে।”- উত্তরবঙ্গ বিভাজনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব অধীর চৌধুরী।

“বিজেপির সংকীর্ণ রাজনীতি বাংলায় বিপর্যয় ডেকে আনবে।”- উত্তরবঙ্গ বিভাজনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব অধীর চৌধুরী।

নিজস্ব প্রতিবেদন: সম্প্রতি রাজ্যের রাজনীতির আঙিনায় উত্তরবঙ্গকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। এরমধ্যে বহুবার তিনি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন। সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন‌ বারলা উত্তরবঙ্গ কে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জোরালো দাবি করেছেন।

তিনি কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছেন, “চিরটা কাল দক্ষিণবঙ্গ উত্তরবঙ্গের সাথে প্রতারণা করেছে। তাই অবিলম্বে উত্তরবঙ্গ আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হোক। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র যা টাকা পাঠাচ্ছে সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে তা কেউ জানতে পারছে না। এদিকে অসম থেকে নেপাল সীমানা বরাবর জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে বাংলাদেশি রোহিঙ্গারা জবরদখল করে রয়েছে।

আরও পড়ুন-“রাজ্য কেন প্রত্যাহার করেছে নিরাপত্তা?”- জানতে চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু অধিকারী।

মুহুর্তের মধ্যেই তাদের আধার কার্ড, রেশন কার্ড হয়ে যাচ্ছে। এদিকে উত্তরবঙ্গের বহু মানুষ রেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”এই মন্তব্যের পর এই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের সূচনা হয়েছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সিপিএম, কংগ্রেস প্রভৃতি দলের নেতৃত্ব রা যথেষ্ট নিন্দা করেছে এই মন্তব্যের।

বিজেপি নেতৃত্ব এই মন্তব্যকে সমর্থন না জানালেও জন বারলার উত্তরবঙ্গ কে বঞ্চনা করার অভিযোগ যে সত্যিই তারা সকলেই একযোগে স্বীকার করে নিচ্ছেন। এই আবহে বিজেপির উপর আক্রমণ শানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেছেন,”স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকেই উত্তরবঙ্গের বেশকিছু রাজনৈতিক নেতারা এই ধরনের অপপ্রচার করছেন যে উত্তরবঙ্গ একটা আলাদা রাজ্য রূপে গড়ে উঠলে তার সমৃদ্ধি হবে, উন্নতি হবে। বিজেপি যখন এই আবহটা তুলেছে তখন আপনারা জানবেন বিজেপির এটা পরিকল্পিত প্রচার ।

আরও পড়ুন-উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়া রাজ্যপালকে কালো পতাকা দেখালো তৃণমূল কর্মীরা

এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে কলকাতায় বিজেপির নেতারা বসে আছেন তারা সমস্ত কিছু জানেন না আর উত্তরবঙ্গের বিজেপি নেতারা অকারণেই কথাটা বলে যাচ্ছেন এটা নয়।মানুষের অভাব, হতাশা, দারিদ্রতা এগুলির উপর ভিত্তি করে বিজেপি উত্তরবঙ্গকে আলাদা করার একটা দাবি তুলছে । এটা পরিকল্পিত ভাবে রাজনৈতিক মঞ্চে এই সংকীর্ণ রাজনৈতিক খেলা খেলা হচ্ছে যা আগামী দিনে বাংলার বুকে একটি বিপর্যয় ডেকে আনতে চলেছে।”