নিউজপলিটিক্সরাজ্য

বাংলার মাটিতে বিজেপির বিপর্যয় আদি নব্য বিজেপির প্রশ্নে পর্যুদস্ত কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের ভোটের আগে বিজেপিতে দলে দলে নাম লিখিয়েছিলেন তৃণমূল থেকে আসা নেতা নেত্রীরা। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে টিকিট দেওয়া নিয়ে গেরুয়া শিবিরে যথেষ্ট বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল। বিক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছিল যখন শুভেন্দু অধিকারী কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করা হয়। বিজেপির মধ্যে আদি বিজেপি এবং নব্য বিজেপির একটি বিভাগ লক্ষ্য করা গিয়েছে।

আদি বিজেপি বনাম নব্য বিজেপির একটা ঠান্ডা লড়াই জারি রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আদি বিজেপির বহু নেতা এবং সর্মথকরা শুভেন্দুর নেতৃত্বে কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না । এই আবহে আবার বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা নেত্রীরা। দলবদলুরা আবার তৃণমূল মুখো হচ্ছেন।

আরও পড়ুন-“তৃণমূল এখন ধর্ষণটাকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করছে”- নন্দীগ্রামে গিয়ে বিস্ফোরক উক্তি বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পলের।

ইতিমধ্যেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে চলে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন নেতা নেত্রীরা এবং সেইসাথে তৃণমূলে চলে গিয়েছে বিজেপির হাজার হাজার কর্মী সমর্থক। এই পরিস্থিতিতে পদ্মশিবিরে ঘনিয়ে এসেছে দুর্যোগের কালো মেঘ। মুকুল রায়ের আবার তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের পর এই বিজেপির আশঙ্কার আগুনে ঘি পড়েছে। যার দরুন এবার ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট বৈঠক ডাকেছিলো রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন-নন্দীগ্রামে গণনা কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে আবেদন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আজ শুনানি। কটাক্ষ বিজেপির।

এই বৈঠকেই এবার আদি বিজেপি বনাম নব্য বিজেপির দ্বন্দ্বের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতা শিব প্রকাশ, অমিত মালব্য এবং অরবিন্দ মেনন গতকাল এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেখানেই রাজ্য নেতাদের একাধিক প্রশ্নে জেরবার হয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন-মুকুলের বিধায়ক পদ খারিজ করার জন্য রণকৌশল সাজাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী।

কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে রাজ্য নেতারা জানতে চেয়েছেন যে, তাড়াহুড়ো করে কোনো রকম বিচার বিবেচনা না করে অন্য দল থেকে কেন লোক নেওয়া হয়েছিলো বিজেপিতে ? দল ত্যাগ করে আসা নেতাদের যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হল, অথচ যারা বিজেপিতে অনেক আগে থেকেই দায়িত্ব নিয়ে রয়েছে তাদের কোনরকম গুরুত্ব অর্পণ করা হলো না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এক্ষেত্রে অদূরদর্শিতা তাছাড়া আর কিছুই বলা চলে না।

এমনটাই অভিযোগ করেছেন রাজ্য নেতারা। অর্থাৎ এই বৈঠকে স্পষ্টতই কেন্দ্রীয় নেতারা টের পেলেন যে বাংলায় আদি বিজেপি এবং নব্য বিজেপির একটা দ্বন্দ্ব জারি রয়েছে ।

Related Articles

Back to top button