‘গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত বিজেপির।আর অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত’; দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী!

‘গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত বিজেপির।আর অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত’; দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-শীতলকুচির ঘটনায় ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন অংশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। নিজেদের দোষ একেবারেই মানতে নারাজ বাংলার রাজনৈতিক দলগুলি। একদিকে যেমন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দায়ী করে চলেছে বিজেপি, অপরদিকে তেমনভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সম্পূর্ণ ঘটনার জন্য দোষী সাব্যস্ত করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত গতকাল হঠাৎ করেই চতুর্থ দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন কোচবিহারের শীতলকুচির মাথাভাঙ্গার জোরপাটকিতে হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে অশান্তির জেরে চার যুবকের গুলির আঘাতে মৃত্যু হয়।ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কে প্রকৃত দায়ী সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি!তবে তৃণমূল এবং বিজেপি একে অপরকে দোষী সাব্যস্ত করে চলার ফলে রাজ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছচ্ছে।

এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী শিবির তথা বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন,”গলায় দড়ি দিয়ে মরা উচিত বিজেপির। আর অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।এর বদলা আমি নেবই, তবে গুলির বদলে ভোটের মাধ্যমে বদলা নেব”।পাশাপাশি এদিন ভোটের প্রচারে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের শীতলকুচির মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে কালো ব্যাজ পড়ে প্রতিবাদের নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। সেইমতো আজ জোরপাটকিতে সকাল থেকেই শহীদ বেদী নির্মাণ করার পাশাপাশি কালা দিবস পালন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন-‘আপনার মুখ কেউ দেখতে চায় না তাই প্লাস্টার করা পা দেখিয়ে ভোট চাইছেন’; মমতাকে জোর কটাক্ষ দিলীপের!

প্রতিবাদ মিছিল ছাড়াও এদিন মতুয়া সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে তৃণমূল নেত্রী জানান,”আমি সমস্ত উদ্বাস্তু মতুয়াদের নাগরিক করে দিয়েছি। তাই নতুন করে নাগরিকত্ব নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বিজেপি নাগরিকত্ব নিয়ে ভাঁওতা দিচ্ছে”।জানিয়ে রাখি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির নেতারা।দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন এই ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হলে বারংবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় শীতলকুচি তৈরি করা হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মুখ দেখতে বাংলায় আসেনি বলেও দাবি করেন দিলীপ বাবু।

অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, হেরে যাওয়ার ভয়ে দিদি দুর্নীতিগ্রস্ত ভাবে ভোটে জেতার চেষ্টা করছেন। রাজ্যে কখনোই তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেবেন না। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে অরাজকতা এবং হিংসা সৃষ্টি করছেন বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী সরকারের হাতে থাকে না, সম্পূর্ণরূপে কমিশনের হাতে থাকে। তাই এই ঘটনায় বিজেপির কোন দায়বদ্ধতা নেই।