নিউজটেক নিউজরাজ্য

দূর দূরান্ত থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করে এলাকার দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে বন্টন করছেন বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের কাছে রীতিমতো পর্যুদস্ত হয়েছে বিজেপি। বিজেপির স্টার প্রচারকদের লাগাতার প্রচার বিজেপি-কে জয় এনে দিতে পারেনি। উপরন্তু বিজেপির এবারের নামিদামি তারকা প্রার্থীরাও মুখ থুবড়ে পড়েছেন। বিজেপির দখলে গিয়েছে মাত্র ৭৭ টি আসন।

তবে এবারের গ্ল্যামারের চাকচিক্যের মধ্যেই বাঁকুড়ার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রে অতি দরিদ্র সাধারণ এক গৃহবধূ চন্দনা বাউড়ির জয় বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে কিছুটা গর্বের স্পর্শ দিয়েছে।বাঁকুড়া শালতোড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউড়ি। দিনমজুর স্বামী, দুই সন্তানের মা এই গৃহবধূ তাদের টানাটানির সংসারে ভীষণভাবে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করেন। তাকেই এবারের নির্বাচনে লড়ার টিকিট দিয়েছিল বিজেপি।

আরও পড়ুন-অধীর চৌধুরী কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখলেন প্রধানমন্ত্রী। বহরমপুর-কল্যাণীতে শুরু করালেন করোনা হাসপাতাল তৈরির কাজ।

সকালবেলা সংসারের কাজ গুছিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে তিনি বেরিয়ে পড়তেন প্রচার অভিযানে। এলাকার মানুষ তার দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন ভরসার হাত। ভোটে জয় পেয়েছেন চন্দনা দেবী। প্রচারের প্রথম পর্ব থেকেই যথেষ্ট জনসমর্থন পেয়েছিলেন চন্দনা বাউড়ি।

শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি। তিনি প্রথম থেকেই জানিয়েছিলেন যে নির্বাচনে জিতলে এলাকার মানুষের পানীয় জলের বন্দোবস্ত করবেন, এলাকার রাস্তাঘাট তৈরি করবেন এবং আরও বিভিন্ন ভাবে মানুষের পাশে থাকবেন। শালতোড়ার মানুষজন‌ও অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন চন্দনার দিকে। চন্দনা বাউড়ি বলেছেন যে, তিনি তাঁর বিধায়ক হিসাবে প্রাপ্য টাকার বেশীরভাগ অংশ খরচ করবেন অসহায়, দুঃস্থ মানুষদের জন্য।

আরও পড়ুন-বাঁকুড়ার মাটিতে কোভিড কেয়ার ইউনিট চালু করলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর মধ্যেই একটা মানবিক উদ্যোগ সম্পন্ন করেছেন চন্দনা।তিনি তাঁর ফেসবুকে বেশ কিছু ছবগ পোস্ট করেছেন। সেখানে তাঁকে দেখা গিয়েছে এলাকার দুঃস্থ মানুষদের হাতে ত্রাণ তুলে দিতে। চন্দনা এই ফটোগুলো পোস্ট করে লিখেছেন, “কলকাতা রাজারহাট নিউ টাউন থেকে সমাজসেবী সম্প্রদায়ের মানুষ আমাকে বেশ কিছু সামগ্রী দিয়ে যায় যেগুলো দরিদ্র মানুষের হাতে তুলে দিতে বলে।

আরও পড়ুন-ভিন রাজ্যে বজ্রাঘাতে মৃত বাঙালি পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাই আজ আমি আমার গ্রামসহ আর কিছু পাশাপাশি গ্রামে সাতটি পরিবারের হাতে চাল, ডাল ও বেশকিছু বস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছি।”গ্রাম্য ছাপোষা এই গৃহবধূ নির্বাচনের পর থেকেই বাংলায় অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানুষের কল্যাণার্থে তাঁকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করছেন। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেওয়া বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিচ্ছেন।

এলাকার বিধায়ককে এই মানবিক রূপে পেয়ে যথেষ্ট আপ্লুত মানুষজন।

Related Articles

Back to top button