“সৎ বাঙালি অফিসারকে অপমানের চেষ্টা করছে বিজেপি।”- আলাপন ইস্যুতে সরব তৃণমূল।

“সৎ বাঙালি অফিসারকে অপমানের চেষ্টা করছে বিজেপি।”- আলাপন ইস্যুতে সরব তৃণমূল।

নিজস্ব প্রতিবেদন: গত মে মাসের ২৭ তারিখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলা এবং ওড়িশার ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন। কলাইকুন্ডায় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু ওই বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকার দরুন মুখ্যমন্ত্রী ওই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেননি। এর সাথে যুক্ত হয়েছে তৎকালীন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম‌ও। ‌

তৎকালীন রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠকে উপস্থিত না হয় তাঁর পদের অমর্যাদা করেছেন এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার যার দরুন তাঁকে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছিলো কেন্দ্র।তারপরেই ই’মেইল করে কেন্দ্রের শোকজের জবাব দিয়েছিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দ্রীয় পদ থেকে রিটায়ার নিয়েছেন। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে তাঁর মুখ্য উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করেছেন।

আরও পড়ুন-“২০২৪ এর লোকসভা ভোটে তৃতীয়, চতুর্থ ফ্রন্ট বিজেপিকে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারবে না।”- বললেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর

এবার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ দপ্তর। তাঁকে জানানো হয়েছে যে , অল ইন্ডিয়া সার্ভিস রুলের ৮ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই চিঠির উত্তর না দেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ দপ্তর। তাঁর রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ দপ্তর।

আরও পড়ুন-আবার সংসার ভাঙার আশঙ্কা বিজেপিতে। এবার বিজেপির শীর্ষ নেতাদের আক্রমণ দলের‌ই রাজ্য সহ সভাপতির।

এবার আলাপন ইস্যুতে সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা সৌগত রায়। তিনি সোচ্চার কন্ঠে বলেছেন, “নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার কতটা নিষ্ঠুর এবং অমানবিক তা এই সিদ্ধান্তে পরিষ্কার । আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সদ্য মাতৃবিয়োগ হয়েছে । নির্বাচনের আগেই তাঁর ভাই মারা গিয়েছেন।

এইসময়েই তাঁকে কেন্দ্র কড়া চিঠি পাঠিয়েছে। উনি দিল্লিতে না গিয়ে সরাসরি অবসর নিয়ে নিয়েছেন। তাই এখন সার্ভিস কন্ডাক্ট রুল অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকার কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারবে না। ওরা শুধুমাত্র অবসরের পর যে গ্র্যাচুইটি, পেনশন থাকে সেগুলো নিয়ে টানাটানি করতে পারবে।

আরও পড়ুন-“প্রশান্ত কিশোর আমাদের ভাগ্যবিধাতা নন”- শরদ পাওয়ারের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে বললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

এইরকম কঠোর মনোভাব দেখানো মানে নির্বুদ্ধিতা। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী নন। বিজেপি মানুষকে এইভাবেই ভয় দেখিয়ে মনোবল ভেঙে দিতে চাইছে। বাংলার মানুষ একজন বাঙালি অফিসারের এমন অপমানের সঠিক সময়ে জবাব দেবেন।”

সুখেন্দু শেখর রায় বলেছেন, “কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে বাংলার প্রশাসনকে দুর্বল করে দিতে। অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চিঠিতে উল্লিখিত ধারা গুলি প্রযোজ্য নয়। এইসব নোংরামি কেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করুক।”