নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি খরচ করছে ১০০ কোটি। অথচ করোনায় বেহাল অবস্থা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে।

নির্বাচনী প্রচারে বিজেপি খরচ করছে ১০০ কোটি। অথচ করোনায় বেহাল অবস্থা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে।

নিজস্ব প্রতিবেদন: ভারতের বুকে রাজনীতির চর্চা বহুদিনের। ‌ চাণক্য থেকে শুরু করে বহু রথী মহারথীরা রাজনীতিতে নিজের নাম স্বর্নাক্ষরে লিখে গিয়েছেন। বর্তমানে এর অন্যথা হয়নি। বর্তমানে ভারতের বুকে একমাত্র রাজনৈতিক ক্ষেত্রটিকে সবথেকে বড় করে দেখে ভারতের মানুষজন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের বুকে রাজনীতির আবহ আরো ব্যাপকভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরেছে বাংলার মানুষজনকে।

করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের ঢেউ প্রবলভাবে আঘাত করেছে ভারত তথা বাংলার মানুষজনকে। কিন্তু প্রাণের মায়া ত্যাগ করেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষজন মেতে উঠেছে একুশের বিধানসভা ভোটের লড়াইয়ে। নেতা মন্ত্রীদের মিটিং-মিছিল জনসভায় ব্যাপকভাবে ভিড় জমাচ্ছেন মানুষজন। ভিড়ের মধ্যে শিকেয় উঠেছে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি ।সারা দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের অপ্রতুলতা, ভ্যাকসিনের যথেষ্ট যোগান নেই, পর্যাপ্ত ওষুধের যথেষ্ট জোগাড় নেই।

কিন্তু এই পরিস্থিতিতে যেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও ঢেলে সাজানো উচিত সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপিকে খরচ করে চলেছে বাংলায় একুশের ভোটের প্রচার অভিযানের জন্য। ‌ দিনের-পর-দিন বিভিন্ন জনসভায়, র‌্যালিতে জলের মতো টাকা খরচ করছে বিজেপি এবং তৃণমূল ‌। টাকার অঙ্কে নিরিখে সব থেকে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। বিজেপির ভিভিআইপি ক্যাম্পেনার মোদী এবং অমিত শাহের কপ্টার এবং বিমান ভাড়াতেই খরচ হয়ে গিয়েছে প্রায় ১০০ কোটির উপরে। ইতিমধ্যেই ৩০০ টি কপ্টারের জন্য প্রায় ৩০ কোটি ভাড়া মিটিয়েছে গেরুয়া শিবির।

আরও পড়ুন-আবার মানবিক মুখ রতন টাটার। করোনা রোগীদের জন্য দান করতে চলেছেন বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন।

হেলিকপ্টার গুলির ভাড়া ঘন্টায় ২ লাখ টাকা থেকে ২.৫ লাখ টাকা। ছোটো বিমানগুলির ভাড়া লেগেছে ঘন্টাপ্রতি প্রায় ১ লক্ষ টাকার উপরে। কলকাতা বিমান বন্দরে এখনো পর্যন্ত নেতাদের এই রকমই ৭০ টি বিমান ওঠানামা করেছে। ছয় আসনের হেলিকপ্টার এবং কুড়িটি আসনবিশিষ্ট হেলিকপ্টারের ব্যবহার হয়েছে প্রচুর পরিমাণে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের হেলিকপ্টারের ১০% ব্যবহার করছেন বলে জানা গিয়েছে।

মোট ৯০% হেলিকপ্টার বিজেপি ব্যবহার করছে।বিশেষ করে দেদার এই খরচের বহরে অনেকেই যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এত পরিমান টাকা প্রচারে খরচ না করে এই টাকায় স্বাস্থ্য পরিষেবা কে আরো ঢেলে সাজানো যেত, প্রতিটি মানুষকে বিনা পয়সায় দুটি করে টীকা দেওয়া যেতো। কিন্তু স্বাস্থ্য পরিষেবায় ব্যবহার না করে এই টাকা জলের মতো খরচ করা হচ্ছে রাজনৈতিক নেতাদের প্রচারাভিযানে। ভারতের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে যেখানে শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা যথেষ্ট বেশি সেখানে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এই ধরনের খরচের বহর কখনোই কাম্য নয়। সবার আগে মানুষ এবং তার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। কিন্তু এখানে মানুষের স্বাস্থ্যের দিক টি গৌণ ভাবে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলি।