নিউজপলিটিক্সরাজ্য

“বিজেপি করে ভুল করেছি। দয়াকরে দলে নিন।”- বীরভূমের ইলামবাজারে তৃনমূল কার্যালয়ের সামনে ধর্না দিল বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের ভোটে জয়জয়কার তৃণমূলের। এই ভোটের আগে জল্পনা গাঢ় হয়েছিলো যে এবারে বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে দিয়েছে। যার দরুন অনেকেই রাজনৈতিক কেরিয়ার বজায় রাখার জন্য জয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল থেকে বেরিয়ে এসে যোগদান করেছিলেন বিজেপিতে। বিজেপির নেতারাও তাদের জনসভা, রোড শো’তে কাতারে কাতারে মানুষের ভীড় দেখে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে উঠেছিলো।

অমিত শাহ স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘ইস বার দোশো পার।’ কিন্তু হয়তো ভীতরে ভীতরে অন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছিলেন আপামর বাংলার মানুষজন। একুশের ভোটের রেজাল্টে দেখা গিয়েছে বিজেপির দখলে মাত্র ৭৭ টা সীট , সেখানে তৃণমূল ২১৩ টি সীট পেয়ে আবার তাদের বিজয়রথ ছুটিয়েছে বাংলা জুড়ে। এর পরেই বিজেপির বেশীরভাগ কর্মী সমর্থকরা তৃণমূলে আসার জন্য হুড়োহুড়ি লাগিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন-“বেইমানদের কোনো জায়গা নেই।”- ডোমজুড়ে তৃণমূল কর্মীরা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুত্তলিকা দাহ করে দেখালো বিক্ষোভ।

দীর্ঘ চারবছর বিরহের পরে আবার তৃণমূলে যোগদান করেছেন মুকুল রায় এবং তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়। বিধানসভায় বাংলায় বিজেপির ঠোক্কর খাওয়ার পরেই বিজেপি ছেড়ে বেরিয়ে এসে দলে দলে সমর্থকরা নাম লেখাচ্ছেন তৃণমূলে।এবার বীরভূমের ইলামবাজারে দেখা গিয়েছে এক অন্যরকমের দৃশ্য। ইলামবাজারের তৃনমূল কার্যালয়ের সামনে তৃণমূলে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ধর্নায় বসলেন বেশ কয়েকজন বিজেপির কর্মী সমর্থক।

আরও পড়ুন-দলনেত্রীকে আবেদন জানিয়েছিলেন মদন মিত্র। এবার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে চলেছে তাঁর।

তাদের সকলের হাতে কিছু না কিছু পোস্টার লেখা ছিল। কারো হাতে লেখা ছিল, ‘আমরা বিজেপি করে ভুল করেছি।’ আবার কারো হাতে লেখা ছিল, ‘মাননীয় ইলামবাজার ব্লক কমিটি আমাদের দয়া করে দলে নিন।’কয়েকদিন আগেই বীরভূমের বুকে দেখা গিয়েছে বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের কাছে ক্ষমা চেয়ে টোটোয় চেপে মাইকে করে প্রচার করেছেন।

আরও পড়ুন-বিজেপি করার অপরাধে করা হলো গণধর্ষণ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ধর্ষিত মহিলারা

খানিকটা এরকমই একটি ঘটনা ইলামবাজারেও। জানা গিয়েছে ইলামবাজার তৃনমূল কার্যালয়ের সামনে হঠাৎ করে ওই বিজেপি কর্মীরা ধর্নায় বসে পড়ায় মানুষজন রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। ইলামবাজার ব্লক তৃণমূল সভাপতি বলেছেন, “ওই বিজেপি কর্মীর আর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। দলীয় কার্যালয়ে তারা আমাকে অনুরোধ জানিয়েছেন যে তৃণমূলে জায়গা দিতে।

আমিও তাদের তৃণমূলে আবার জায়গা দিয়েছি। আরও লোক বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসবে।”

Related Articles

Back to top button