নিউজ

অ্যাম্বুলেন্স দেরিতে আসায় মেডিকেলের বাইরে দীর্ঘক্ষন ধরে অপেক্ষা করতে হলো করোনা রোগীকে। অভিযুক্ত স্বাস্থ্য ভবন।

নিজস্ব প্রতিবেদন: সারা ভারত জুড়ে আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের ঢেউ। একের পর এক মানুষের প্রাণ কাড়ছে এই ভয়াবহ ভাইরাস। এই ভাইরাসের কবলে পড়ে অসংখ্য মানুষ তার প্রিয়জনদের হারিয়ে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন। এই সময় মানুষের সাহায্যার্থে এগিয়ে এসেছেন সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে অনেক সাধারণ মানুষ জন। অভিনেতা অক্ষয় কুমার থেকে শুরু করে সলমন খান, ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকার , অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন সহ অনেকেই করোনা মোকাবিলায় যথেষ্ট সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বলিউডের ভিলেন তথা বাস্তবের ভগবান স্বরূপ সোনু সুদ প্রথম থেকেই সাধারণ অসহায় মানুষের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে অটোচালকরা স্বেচ্ছায় বিনামূল্যে রোগীদের পৌঁছে দিচ্ছেন হাসপাতালে। একদিকে যখন মানবিকতার নজির গড়ছেন অনেক মানুষ জন তখন অপরদিকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও বিভিন্ন জায়গা থেকে অমানবিকতার ছবি নজরে আসছে। ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে খাস কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। জানা গিয়েছে কলকাতার ভবানীপুরে একই পরিবারের চারজন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ।

আরও পড়ুন-আসানসোল দক্ষিণের মাটিতে হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তথ্য মিলল বুথ ফেরত সমীক্ষায়

তাদের ছেলে ভিন রাজ্যে থাকেন। সেখান থেকে অনলাইনে স্বাস্থ্য ভবনে পরিবারের সদস্যদের নাম নথিভুক্ত করান। কিন্তু সাত থেকে আট ঘন্টা পর অ্যাম্বুলেন্স এলে যখন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর প্রৌঢ়া মাকে নিয়ে যাওয়া হয় তখন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জানায় যে স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে তাদের কাছে কোন রোগের নাম নথিভুক্ত করা হয়নি। তারপরে ওই প্রৌঢ়াকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে মেডিকেল কলেজ।

এরপর রাত ১১ টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ছটফট করতে থাকেন ওই প্রৌঢ়া। স্বাস্থ্য ভবনের পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সের ওই ড্রাইভার কে ওই ৭০ বছরের বৃদ্ধা আরতি চ্যাটার্জীর বাড়ির লোক আবার প্রৌঢ়া কে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে বললে অ্যাম্বুলেন্স চালক জানায় যে তার কাছে বাড়ি ফেরার কোনো নির্দেশিকা দেয়নি স্বাস্থ্য দপ্তর। রাত একটা পর্যন্ত কাতরাতে থাকেন ওই প্রৌঢ়া। তারপরে খবর পেয়ে সাংবাদিকরা মেডিকেল কলেজ চত্বরে পৌঁছালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তৎপরতার সাথে ওই প্রৌঢ়াকে ভর্তি করে নেয় হাসপাতালে। এই ঘটনায় রাজ্যের বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

Related Articles

Back to top button