“মতুয়ারা কি নাগরিক নন?”- বিজেপিকে প্রশ্ন মমতার

“মতুয়ারা কি নাগরিক নন?”- বিজেপিকে প্রশ্ন মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদন: একুশের ভোট ঘিরে যথেষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্যের বুকে। বিভিন্ন জনসভায় একে অপরের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল-বিজেপি। সেই সাথে জনসভা থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতারা মানুষকে আশ্বাসবাণী দিয়ে চলেছেন যে ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গ কে সোনার বাংলা রূপে গড়ে তুলবেন তারা। অমিত শাহ বেশ কয়েকটি জনসভায় বলেছেন যে, “ক্ষমতায় এলে মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি সরকার।”

অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “১৯৭১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত যারা এসেছেন, তাঁরা সবাই ভারতীয় নাগরিক‌। তাহলে মতুয়ারা কি নাগরিক নন ভারতের?“কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক জগতে। প্রসঙ্গত অমিত শাহ মতুয়াদের যে পদ্ধতিতে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা উল্লেখ করছেন তা কখনোই আইনত নয়।

আরও পড়ুন-“ভ্যাকসিন তো আর রসগোল্লা নয় যত পারবে তৈরি করবে”- মমতার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বললেন বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য

সিএএ ২০১৯ এর কোনো ধারাতেই মতুয়াদের আলাদা করে কোনরকম নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি আবেদনকারী শরণার্থীরা যদি কিছু শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন তবেই তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। ধর্মীয় দাঙ্গায় প্রাণ সংশয় এর আশঙ্কায় যারা ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছেন তারা ফরেনার্স অ্যাক্ট ১৯৪৬ এবং পাসপোর্ট অ্যাক্ট ১৯২০ এর আওতায় নাগরিকত্ব পেতে পারেন। ‌

কিন্তু বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের অনেকেই ধর্মীয় দাঙ্গার কথা বলে নাগরিকত্ব নিতে পারবেন না। এছাড়াও পূর্ববঙ্গ থেকে এসে যারা এতদিন পরে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করবেন তারা বেশকিছু সমস্যার মধ্যে পড়তে পারেন। ‌ তার কারণ তারা এতদিন ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। ‌ সাথে সাথে এসপিআর বা সিএএ যদি শুরু হয়, তাহলে তাঁরা সন্দেহজনক অনুপ্রবেশকারীর তালিকা চিহ্নিত হবেন।এদিকে আসামে এন‌আরসিতে বাদ গিয়েছে ১৯ লক্ষ মানুষ। এরমধ্যে ১২ লক্ষ হিন্দু বাঙালি এবং ৫ লক্ষ বাঙালি মুসলমান। এ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন দলিত আদিবাসী সহ আরও কয়েক সম্প্রদায়।