অভিনব কৃতিত্বের নজির:দীর্ঘ মাইল পায়ে হেঁটে পড়াশোনা করার পরেও আজ ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী!

অভিনব কৃতিত্বের নজির:দীর্ঘ মাইল পায়ে হেঁটে পড়াশোনা করার পরেও আজ ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পী!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-হাজারো বাধার পরেও জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত সাফল্য।আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এমন এক নারীর কথা বলবো,যার আর্থিক সামর্থ্য না থাকলেও ছিল যথেষ্ট পরিমাণে ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস। আর সেই আত্মবিশ্বাস এর জেরেই গরিব পরিবার থেকে সোজাসুজি সে পৌঁছে গিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার দোরগোড়ায়। মেধাবী এই ছাত্রীটির নাম শিল্পী মোদক। অষ্টম শ্রেণী থেকেই সম্পূর্ণরূপে বাড়িতে পড়াশোনা করত শিল্পী।

কোনরকম প্রাইভেট টিউটর ছিলনা তার।কারণ অভাবের সংসারে তার মায়ের একমাত্র মেয়ের পড়াশোনার জন্য শিক্ষক রাখার ক্ষমতা ছিল না।হবিগঞ্জের রামকৃষ্ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হিসেবে শিল্পী জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেছিল। স্কুল থেকে সে পড়াশোনার ছোটখাটো খরচা এবং বই পেত। মেধাবী ছাত্রী হবার সুবাদে কখনোই শিক্ষকরা তাকে ফিরিয়ে দিতেন না।যেভাবে হোক নিজের জীবনে পড়াশোনা করে স্বাবলম্বী হয়ে মায়ের পাশে দাঁড়ানোই ছিল শিল্পীর প্রধান লক্ষ্য।

এমনকি একবার পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্থান লাভ করার জন্য শিল্পীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্কুলের দেওয়ালে তার নাম লিখে রেখেছিলেন। আজ পর্যন্ত কখনো শিল্পী স্কুলের পরীক্ষায় প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হননি বলেই জানা গিয়েছে। ২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর উচ্চমাধ্যমিক বিভাগে ভর্তি হন তিনি। এই সময় থেকেই প্রথমবার টিউশন পড়তে দেখা যায় শিল্পীকে। তবে এলাকার কিছু বাচ্চাকে পড়িয়ে সেই খরচা নিজেই সংগ্রহ করতেন শিল্পী।

আরও পড়ুন-ফের মানবিকতার নজির;লকডাউনে রাস্তার ১৩ টি কুকুরের দায়িত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মহিলা!

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর মেহেন্দীবাগ এলাকার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে কলেজে আসতেন। সত্যি বলতে গেলে এই সময়টা খুবই কঠিন ছিল শিল্পীর পক্ষে।২০০৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হন শিল্পী।কলেজে তার পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ এবং তার মেধা দেখে অনেক শিক্ষক তাকে বিনা বেতনে পড়াতে রাজি হন।

এমনকি অনেক বার তার মাস মাইনে পর্যন্ত মকুব করে দেওয়া হয়েছিল।জীবনে বহু বাঁধা আসলেও কখনো তাতে ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসেননি শিল্পী মোদক নামে এই কন্যা।উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও বীজবিজ্ঞান বিভাগে সাফল্যের সাথে স্নাতকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন শিল্পী। এহেন ঘটনায় শিল্পীর মা আজ গৌরব বোধ করছেন মেয়ের জন্য। এতদিনের সমস্ত কষ্ট তার স্বার্থক আজ। কোনমতে কাপড় সেলাই, লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করে শিল্পীর পড়াশোনার খরচা চালাতেন তিনি। কিন্তু আজ শিল্পীর উন্নতিতে সেই মায়ের মুখ সাফল্যের আলোকে উজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছে।