ভাগ্যের পরিহাসে একসময়ের বক্সিং চ্যাম্পিয়ন আবিদ খান বর্তমানে অটোচালক; সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আনন্দ মাহিন্দ্রা!

ভাগ্যের পরিহাসে একসময়ের বক্সিং চ্যাম্পিয়ন আবিদ খান বর্তমানে অটোচালক; সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন আনন্দ মাহিন্দ্রা!

নিজস্ব প্রতিবেদন:-ভাগ্যের পরিহাস সব সময় অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির হয়। ভাগ্য মানুষকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে চলে যাবে কেউ বলতে পারে না। এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা ভাগ্যের ফেরে ভিখারী থেকে কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন; আবার অনেক এমনও মানুষ রয়েছেন যারা ভাগ্যের পরিহাসে সর্বস্বান্ত হতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও এই ভাগ্যকে নিজের পরিশ্রম এবং অধ্যাবসায় দ্বারা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে সব ক্ষেত্রে সমান ফলাফল পাওয়া যায় না।

আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এমন একজন ব্যক্তির গল্প জেনে নেব, যিনি একসময় বক্সিং চ্যাম্পিয়ন হলেও বর্তমানে একজন অটোচালকে পরিণত হয়েছেন। আবিদ খান নামে এই ব্যাক্তি প্রাক্তন জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়ন। একসময় দেশের হয়ে বক্সিংয়ে একাধিক পদক জিতে ছিলেন তিনি।সম্প্রতি কিছুদিন আগেই স্পোর্টস ডিলেজ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে ভাইরাল ভিডিওতে আবিদ খানের সম্বন্ধে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে তা নিঃসন্দেহে যেকোনো মানুষকে অবাক করবে।

ভিডিওটি থেকে জানা যাচ্ছে যে, শুধুমাত্র জাতীয় দলের হয়ে পদক জেতা নয় বেশ কিছু সময় সেনা বক্সিং দলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় স্পোর্টস ইনস্টিটিউটের পদেও তিনি কাজ করেছিলেন। কিন্তু এর পরেই হঠাৎ করে তার কাজ চলে যায়। একজন জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও কোন জায়গা থেকে কাজ পাননি তিনি। এক সাক্ষাৎকারে আবিদ খান বলেছেন,’দরিদ্র ব্যাক্তি বা মধ্যবিত্ত ব্যক্তিদের জন্য সব থেকে বড় অভিশাপ হল তারা গরিব এবং ক্রীড়াপ্রেমী। খেলাধুলায় কিছুই হয় না। একজন ক্রীড়াবিদ হয়ে আমি এত কিছু অর্জন করেছি, ডিপ্লোমা পেয়েছি।

আরও পড়ুন-করোনা আবহে হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল হয়ে গেল একাধিক ট্রেন!

কিন্তু তার পরেও আমাকে চাকরি দেওয়া হয়নি। যেখানেই গিয়েছি সেখান থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক জায়গা থেকে ফাঁকা পোস্ট নেই বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে’।বর্তমানে সংসার চালানোর জন্য অত্যন্ত আর্থিক অনটন দেখা দিয়েছে এই ব্যক্তির।এমতাবস্থায় জাতীয় স্তরের খেলোয়াড় হওয়া সত্বেও আর কোন উপায় না থাকায় অটো চালাচ্ছেন আবিদ খান।

একজন খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও তাই তিনি নিজের ছেলেদের কোনরকম ভাবেই খেলাধুলার দিকে আগ্রহ দেখানোর চেষ্টা করেননি।কারণ এই বেকারত্ব সমস্যার ফলে হয়তো পরবর্তীকালে তার ছেলেদের কেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।গল্পটি জানার পর সকলের মনেই একটি প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে! ভারতের মত প্রগতিশীল দেশে কেন দিনের পর দিন এত বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি পাচ্ছে বেকারত্বের সংখ্যা? কেনই বা ডিগ্রী এবং সার্টিফিকেট থাকা সত্ত্বেও মানুষ তার উপযুক্ত কাজ পাচ্ছেন না! সরকার,নেতা মন্ত্রী বদল হলেও এখনো পর্যন্ত এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।